সংক্ষেপে উত্তর: ডোমেইন হোস্টিং কত টাকা লাগবে, তা নির্ভর করে ডোমেইনের ধরন (.com, .com.bd, .xyz ইত্যাদি), হোস্টিং প্যাকেজের আকার আর আপনি মাসে মাসে নাকি বছরে একবার পেমেন্ট করছেন তার ওপর। শুধু প্রথম বছরের দাম দেখবেন না। দ্বিতীয় বছরের রিনিউ খরচ, SSL, ইমেইল আর ডিজাইনের খরচও হিসাবে ধরুন। আমাদের সব সার্ভিসের বর্তমান দাম এক জায়গায় পাবেন মূল্য তালিকা পেজে।
নোয়াখালী, ফেনী বা লক্ষ্মীপুরে যারা প্রথমবার ওয়েবসাইট বানাতে চান, তাদের সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এটাই: "ডোমেইন হোস্টিং কত টাকা?" কেউ বলে ৫০০ টাকায় হয়ে যাবে, কেউ বলে হাজার দশেক লাগবে। আসলে দুই কথাই ঠিক হতে পারে, কারণ সবাই একই জিনিসের দাম বলছে না। এই লেখায় সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলব আপনি আসলে কোন কোন জিনিসের জন্য টাকা দেন, কোথায় লুকানো খরচ থাকে আর দামের তালিকা কীভাবে পড়বেন।
ডোমেইন আর হোস্টিং আসলে কী?
- ডোমেইন: আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যেমন
yourshop.comবাyourshop.com.bd। এটা বছর হিসেবে ভাড়া নিতে হয়, প্রতি বছর রিনিউ করতে হয়। - হোস্টিং: যে সার্ভারে আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল, ছবি আর ডাটাবেস থাকে। এটাকে দোকানের জায়গা ভাড়ার মতো ভাবতে পারেন। মাসিক বা বার্ষিক ভাড়া দিতে হয়।
ডোমেইন ছাড়া মানুষ আপনার সাইট খুঁজে পাবে না, আর হোস্টিং ছাড়া সাইট চলবে না। তাই দুটোই লাগে।
ডোমেইনের দাম কেন আলাদা আলাদা হয়?
ডোমেইনের শেষ অংশকে (যেমন .com, .net, .com.bd) বলে এক্সটেনশন বা TLD। প্রতিটা এক্সটেনশনের দাম আলাদা।
- .com: সবচেয়ে জনপ্রিয়, ব্যবসার জন্য নিরাপদ পছন্দ।
- .com.bd: বাংলাদেশের ব্যবসা বোঝায়। এটা নিতে কাগজপত্র লাগতে পারে, আর সময়ও একটু বেশি লাগে।
- .xyz, .online, .shop: প্রথম বছর অনেক সময় খুব কম দামে পাওয়া যায়। কিন্তু রিনিউ খরচ অনেক বেশি হতে পারে।
রেজিস্ট্রেশন আর রিনিউ খরচের পার্থক্য কী?
এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। অনেক ডোমেইনের প্রথম বছরের দাম (রেজিস্ট্রেশন) কম থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় বছর থেকে রিনিউ খরচ অনেক বেশি। তাই ডোমেইন কেনার আগে অবশ্যই দুটো দামই দেখুন।
| খরচের ধরন | মানে কী | কী খেয়াল রাখবেন |
|---|---|---|
| রেজিস্ট্রেশন | প্রথম বছরের দাম | অফারের দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না |
| রিনিউ | দ্বিতীয় বছর থেকে প্রতি বছরের দাম | এটাই আসল দীর্ঘমেয়াদি খরচ |
| ট্রান্সফার | অন্য কোম্পানি থেকে ডোমেইন সরিয়ে আনার খরচ | সাধারণত সাথে এক বছর মেয়াদ যোগ হয় |
আমাদের ডোমেইন পেজে প্রতিটা এক্সটেনশনের রেজিস্ট্রেশন, রিনিউ আর ট্রান্সফার, তিনটা দামই পাশাপাশি দেওয়া আছে।
হোস্টিং মাসিক নাকি বার্ষিক নেওয়া ভালো?
বেশিরভাগ কোম্পানি হোস্টিং মাসিক আর বার্ষিক দুইভাবেই দেয়। সাধারণত বছরে একবার পেমেন্ট করলে মোট খরচ কম পড়ে।
- মাসিক: শুরুতে কম টাকা লাগে, পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার জন্য ভালো। কিন্তু প্রতি মাসে মনে করে পেমেন্ট করতে হয়।
- বার্ষিক: একসাথে বেশি টাকা লাগে, কিন্তু সারা বছর নিশ্চিন্ত থাকা যায়, আর মোট খরচ সাধারণত কম।
আমাদের হোস্টিং পেজে প্রতিটা প্যাকেজের বক্সে Monthly/Yearly বাটন আছে। চাপলে দুই হিসাবই দেখা যায়, আর বার্ষিকে কত শতাংশ বাঁচবে সেটাও লেখা থাকে।
কোন হোস্টিং প্যাকেজ আপনার লাগবে?
- একটা ছোট ব্যবসার সাইট বা পোর্টফোলিও: সবচেয়ে ছোট শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজই সাধারণত যথেষ্ট।
- কয়েকটা সাইট, বা অনলাইন শপ: মাঝারি প্যাকেজ নিন। এতে বেশি জায়গা আর বেশি ইমেইল অ্যাকাউন্ট থাকে।
- নিউজ পোর্টাল বা অনেক ভিজিটরের সাইট: বড় শেয়ার্ড প্যাকেজ বা VPS লাগতে পারে।
- অন্যদের হোস্টিং বিক্রি করতে চাইলে: রিসেলার হোস্টিং।
নিশ্চিত না হলে ছোট প্যাকেজ দিয়ে শুরু করুন। পরে দরকার হলে বড় প্যাকেজে আপগ্রেড করা যায়।
ডোমেইন হোস্টিং ছাড়া আর কী কী খরচ থাকতে পারে?
- SSL সার্টিফিকেট: সাইটের ঠিকানায় তালা চিহ্ন (https) দেখানোর জন্য। আমাদের হোস্টিংয়ে ফ্রি SSL থাকে। অন্য কোথাও নিলে জিজ্ঞেস করে নিন আলাদা টাকা লাগবে কিনা।
- বিজনেস ইমেইল: যেমন [email protected]। অনেক হোস্টিং প্যাকেজে এটা থাকে, আবার কোথাও আলাদা কিনতে হয়।
- ওয়েবসাইট ডিজাইন: ডোমেইন-হোস্টিং শুধু জায়গা আর ঠিকানা। সাইট বানানোর খরচ আলাদা, আর সেটা পেজের সংখ্যা আর ফিচারের ওপর নির্ভর করে।
- থিম বা প্লাগইন লাইসেন্স: WordPress সাইটে প্রিমিয়াম থিম বা প্লাগইন লাগলে।
- রক্ষণাবেক্ষণ: আপডেট, ব্যাকআপ, সিকিউরিটি দেখাশোনা আর ছোটখাটো পরিবর্তন।
কোথায় লুকানো খরচ থাকে?
| লুকানো খরচ | কীভাবে বাঁচবেন |
|---|---|
| প্রথম বছর সস্তা, রিনিউ অনেক দামি | কেনার আগে রিনিউ দাম লিখিত দেখে নিন |
| অন্য কারো নামে ডোমেইন | ডোমেইন সবসময় নিজের নামে রেজিস্টার করুন |
| SSL বা ইমেইলের আলাদা চার্জ | প্যাকেজে কী কী আছে আগে জেনে নিন |
| ব্যাকআপ ফেরত আনতে চার্জ | ব্যাকআপ কত দিন পরপর হয় আর ফেরত আনার নিয়ম জিজ্ঞেস করুন |
| অন্য কোম্পানিতে যেতে বাধা | ফুল ব্যাকআপ পাওয়া যাবে কিনা নিশ্চিত হোন |
মূল্য তালিকা কীভাবে পড়বেন?
আমাদের মূল্য তালিকা পেজে সব দাম এক জায়গায় আছে। পড়ার সময় এই কয়েকটা জিনিস খেয়াল করুন:
- ডোমেইনের সারিতে রেজিস্ট্রেশন আর রিনিউ দুটোই দেখুন।
- হোস্টিংয়ে মাসিক দামকে ১২ দিয়ে গুণ করে বার্ষিক দামের সাথে মিলিয়ে দেখুন, কত বাঁচছে বুঝতে পারবেন।
- প্যাকেজের স্পেক দেখুন: স্টোরেজ, কয়টা ওয়েবসাইট, কয়টা ইমেইল।
- ডিজাইন সার্ভিসের পাশে "শুরু" লেখা দাম মানে সর্বনিম্ন দাম। আপনার কাজ অনুযায়ী লিখিত কোটেশন নিন।
- পেজের তারিখ দেখুন, যাতে নিশ্চিত হন দাম বর্তমান।
কোম্পানির কাছে দাম জিজ্ঞেস করার সময় কী কী জানতে চাইবেন?
ফোনে বা মেসেঞ্জারে শুধু "ডোমেইন হোস্টিং কত টাকা?" জিজ্ঞেস করলে একেক জন একেক রকম উত্তর দেবে। নিচের প্রশ্নগুলো করলে পরিষ্কার আর তুলনা করার মতো উত্তর পাবেন:
- ডোমেইনের প্রথম বছরের দাম কত, আর পরের বছর রিনিউ কত?
- ডোমেইন কার নামে রেজিস্টার হবে? আমার নামে হবে তো?
- হোস্টিংয়ে কত GB জায়গা, কয়টা ওয়েবসাইট আর কয়টা ইমেইল অ্যাকাউন্ট থাকবে?
- SSL ফ্রি কিনা, আর ব্যাকআপ কত দিন পরপর হয়?
- বিকাশ বা নগদে পেমেন্ট করা যাবে কিনা, আর ইনভয়েস দেবেন কিনা?
- সমস্যা হলে কীভাবে, কত তাড়াতাড়ি সাপোর্ট পাব?
যে কোম্পানি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখিতভাবে দিতে রাজি, তার সাথে কাজ করা সাধারণত নিরাপদ।
তিন বছরের মোট খরচ কীভাবে হিসাব করবেন?
ওয়েবসাইট একবার বানিয়ে ফেলে রাখার জিনিস নয়, বছরের পর বছর চালাতে হয়। তাই শুধু প্রথম বছরের দাম না দেখে তিন বছরের মোট খরচ হিসাব করুন। এভাবে দুটো অফার পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায় কোনটা আসলে সস্তা।
- ডোমেইন: প্রথম বছরের রেজিস্ট্রেশন দাম + পরের দুই বছরের রিনিউ দাম।
- হোস্টিং: বার্ষিক দাম × ৩। মাসিক নিলে মাসিক দাম × ৩৬।
- ডিজাইন: একবারের খরচ, তবে পরে বড় পরিবর্তন করালে আলাদা খরচ হতে পারে।
- রক্ষণাবেক্ষণ: নিজে আপডেট করতে না পারলে বছরে কিছু খরচ ধরে রাখুন।
অনেক সময় দেখা যায়, প্রথম বছরে যে অফারটা সবচেয়ে সস্তা মনে হয়েছিল, তিন বছরের হিসাবে সেটাই সবচেয়ে দামি।
কম দামে ভালো সার্ভিস পাওয়ার কয়েকটা টিপস
- হোস্টিং বছরে একবার নিন। সাধারণত মাসিকের চেয়ে কম পড়ে।
- ডোমেইন একসাথে দুই-তিন বছরের জন্য রিনিউ করে রাখতে পারেন। তাতে প্রতি বছর মনে রাখার ঝামেলা থাকে না।
- শুরুতেই অনেক বড় প্যাকেজ নেবেন না। দরকার হলে পরে আপগ্রেড করা যায়।
- বিজনেস ইমেইল আর SSL প্যাকেজে আছে কিনা দেখে নিন, তাহলে আলাদা কিনতে হবে না।
- সাইটের কনটেন্ট (লেখা, ছবি, দাম) নিজে আপডেট করা শিখে নিন। এতে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমে।
পেমেন্ট কীভাবে করবেন?
আমাদের এখানে বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক ট্রান্সফার বা অনলাইন পেমেন্টে টাকা দেওয়া যায়। অর্ডারের পর একটা ইনভয়েস লিংক পাবেন। সেখান থেকেই পেমেন্ট করা যায়, আর কত টাকা বাকি আছে তাও দেখা যায়।
সাধারণ প্রশ্ন
শুধু ডোমেইন কিনে রাখা যায়?
হ্যাঁ। পছন্দের নামটা অন্য কেউ নিয়ে ফেলার আগে শুধু ডোমেইন কিনে রাখতে পারেন। পরে সময় হলে হোস্টিং আর ওয়েবসাইট যোগ করবেন।
রিনিউ করতে ভুলে গেলে কী হয়?
মেয়াদ শেষ হলে সাইট বন্ধ হয়ে যায়। অনেক দিন রিনিউ না করলে ডোমেইনটা অন্য কেউ কিনে নিতে পারে। আমাদের ক্লায়েন্ট পোর্টালে মেয়াদ কবে শেষ হবে তা দেখা যায়, আর সেখান থেকেই রিনিউ করা যায়।
.com নাকি .com.bd নেব?
সারা দেশ বা বিদেশে ব্যবসা করলে .com ভালো। বাংলাদেশি ব্যবসা হিসেবে পরিচিত হতে চাইলে .com.bd নিন। সম্ভব হলে দুটোই নিয়ে রাখতে পারেন।
সবচেয়ে কম খরচে শুরু করার উপায় কী?
একটা .com ডোমেইন, ছোট শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজ (বার্ষিক) আর কয়েক পেজের সাধারণ ওয়েবসাইট দিয়ে শুরু করুন। ব্যবসা বাড়লে ধীরে ধীরে ফিচার যোগ করুন।
আপনার ব্যবসার জন্য ঠিক কত খরচ পড়বে জানতে চান? মূল্য তালিকা দেখুন, অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার প্রয়োজন শুনে আমরা লিখিত হিসাব দেব।